Wednesday, January 18, 2017

কল্প আকাশের বুনোহাঁস

কল্প আকাশের বুনোহাঁস কবেই উড়ে  গেছে শব্দডানায় ভর করে,  ছন্দ পেখম খুলে! নি:সার কল্প আকাশ নৈশব্দ নিয়ে অসার থাকে বর্ণহীন বিষাদের অন্ধকার আবরণে। বুনোহাঁস উড়ে গেছে দূরে, সব নিয়ে তার, সময় কোথায় তার কারো দু:খ ভার বইবার! কল্পলোকে আকাশ আছে আজো, নিরুদ্দেশ লীন হওয়া বুনোহাঁসটি নেই। কবিতা তাই কাগজ ফুঁড়ে জন্ম নেয় না অনেকদিন, ছন্দহীন আলাপনে মত্ত ব্যস্ত সময়। কেউ কি খুঁজেছে আর সেই বুনোহাঁসটার? পেখমে পেখমে বিলিয়ে যেত কাব্যদ্যুতি। শব্দহীন কল্পলোকে অনাহুত প্রবেশ করে দরকষাকষি বাক্যবাণ।  তবু নিভু নিভু আলোয় শূন্য আকাশটি আজো একটি প্রেমের কবিতার প্রচ্ছদ হতে চায়।

কৃষ্ণকলি

সহসা সময়ের উদ্ভ্রান্ত উল্লাসে খেলে যায়
স্পন্দিত সমীর। বাতায়নে ঢেউ তোলে খোলা চুল,
যেন সময়ের তার দৃঢ় আলিঙ্গন।
নাগরিক দ্যোতনা নিথর থাক কিছু সময়।
এসো কাব্যের সুষমায় ছুঁয়ে যাই বিমূর্ততা ।
জীবনের চাওয়া পাওয়া , নিত্যকার যাপিত দিনলিপি সব
থমকে যাক মুহূর্তেই, সময়ের উদ্ভ্রান্তিতে।
ছুঁয়ে যাই তোমার উষ্ণ ঠোট, লাজুক চিবুক।
এলায়িত চুল স্নিগ্ধ সুবাস ছড়িয়ে দিক মৌন বাতায়নে।
দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসুক মহাকালের প্রেমের শব্দাবলী।
কবিতা প্রেম এঁকে যাক আজ তোমায় নিয়ে।
কৃষ্ণকলি, হয়তো ভানু ঠাকুর তোমায় সাজিয়েছে ঢের
তবু এই নিঃসাড় কবির আবেগের রঙ বিবর্ণ নয়।
পটল চেরা চোখের চাহনিতে ছুঁড়ে দাও প্রেমের অগ্নি,
আরেকবার ভস্ম হোক প্রেমের দেবতা, ছড়িয়ে যাক ভুবনময়।
সঙ্গ দেবে অবাধ্য সমীর, দুষ্ট ছোঁয়ায় ওড়না সরিয়ে দিয়ে,
অনাবৃত হোক বক্ষজুগল, ক্লান্ত কবির শীতল দৃষ্টি
উজ্জীবিত হোক উষ্ণতার শিরহনে।
নিমিলিত নয়নের তীক্ষ্ণতায় অজড়  হও, কৃষ্ণকলি।