Monday, October 12, 2015

মুক্তির ঢল



আমি দুঃস্বপ্নের দেশে স্বপ্ন বিলিয়ে যাই
সাদাকালো সব বিবর্ণতায়
সপ্তরঙ্গের তুলি ছোঁয়াই।
আমি অন্ধকারে আলো আনি,
বিষাদ পৃষ্ঠে সুখ হানি।

আমি ঝঞ্ঝার দেশে শান্তির দূত
প্রখর রুদ্র খরায় আমি
সিক্ত বৃষ্টি ধারা অযুত,
আমি ধোঁয়াটে ঝাঁঝের মহা প্রয়াণ
সবুজে মুক্ত বিহগ-গান।

আমি মৌনতার ঐ বিষণ্ণতায়
প্রফুল্লতার রোদ দেখাই
চিত্তানন্দে মন হারায়।
আমি বুলেটের দেশে মুক্তির গান
প্রতিবাদী ডাক ঝড়ো-শ্লোগান।

আমি মৃত্যুর জম সৃজন বেদন
গড়ে তুলি উঁচু আশার ভুবন
তরুণ বুকের অমিয় বোধন।
নই নেমেসিস- প্রতিহিংসা ক্ষত
এরসের প্রেমে ভাসি অবিরত।

পরাধীন গ্লানি বহে না এ মন
হায়নার বুকে ত্রিশূল গেঁথে
ওড়াই মুক্ত বিজয় কেতন।
আমি তৃষিত মরুতে তৃষ্ণার জল
মম শব্দ খেয়ায় মুক্তির ঢল

আমি অন্ধ রাজার নীতি তো নই
সাম্যের দিকে ছুটে বেরোই।
আমি নবপ্রত্যূষে আলোক চুমকি
পিশাচ বুকে খুনের ফিনকি।

আমি ধর্মের নামে অধর্মকে
দগ্ধ করি দারুন সুখে
আমি মুছে যাই শত ক্লান্তি জরা
ভাঙ্গিয়া সাজাই বসুন্ধরা।

প্রভাতের কাব্য



আমি শব্দের সব অক্ষরেতে বিপ্লবী সব আহ্বান
আমি সুরের সব ঝঙ্কারেতে মুক্তিমিছিল কলতান
আমি শৃঙ্খল ভেঙ্গে দ্রোহের চুড়ায় রাজতিলক আঁকি ।
সর্বনাশার রক্ত খুনে তৃপ্তি মেটাই তৃষ্ণার 
আমি রক্ত আগুন উত্তাপে সেই প্রতিবাদী রূপ কৃষ্ণার।
আমি বজ্র কঠোর হুংকারে আজ স্বাধীনতাটাকে ডাকি।

আমি ইন্দ্রধনুর সাতরঙা,  কভু অরুণ আলোর দীপ্তি
আমি রুক্ষ মরুর নির্জলা কভু অঝোর বারীর তৃপ্তি।
আমি দুঃশাসনের রক্ত পানে ধরণীতে আনি মুক্তি
আমি গাণ্ডীব বাণ, বিদ্ধ করি অকল্যাণের বক্ষ
শিবের সাথে দ্বৈরথে আমি প্রজাপতি রাজা দক্ষ।
আমি দাম্ভিক, আমি নির্ভীক, আমি সক্রেটিসের যুক্তি।

আমি একাত্তরের রণাঙ্গনে  যুদ্ধ শিশুর ক্রন্দন
আমি রাজপথে নামা তেইশের সেই তাজা রক্তের স্পন্দন,
আমি অন্ধকারের টুটি চেপে আনি শুভ্র প্রভাতী দিব্য ।
আমি বৈশাখী দোলা তাণ্ডব কভু বাসন্তী উম্মাদনা
আমি বিপ্লবী গান অবিনাশী প্রাণ, দ্রোহের শব্দ বোনা।
আমি নির্জন রাতে নির্ঘুম কবি, লিখি প্রভাতের কাব্য।




Tuesday, September 29, 2015

প্রেম আর দ্রোহে স্বপ্ন সাজাই


তোমার স্পর্শ মিলবে বলে  
কবিতারা সব প্রাণ নিয়ে আজ  
ছন্দ খেয়ার পেলো  নব সাজ
মুক্তির ডাক শব্দ দলে।

তোমার দেখা মিলবে আজি
শব্দরা তাই দৃপ্ত ছন্দে
প্রেমের কবিতা গড়ে আনন্দে
স্পর্ধিত প্রেমে মুক্ত কাব্যরাজী ।

তোমার কণ্ঠ শুনবো যে তাই
দ্রোহের সত্ত্বা  আজকে আমার
কাব্যে কাব্যে হল একাকার
প্রেম আর দ্রোহে স্বপ্ন সাজাই ।

তোমার আলোয় দীপ্ত হবো
সব হাতে হাতে আলোর মশাল
ছিন্ন হল আজ কুণ্ঠার জাল।
পরশে তোমার অম্লান হয়ে রবো।


Tuesday, September 15, 2015

নিয়ত পরাজয়ের সান্ত্বনা


জানি তবু ক্রমেই নিঃশেষ হয়ে চেতনার অঙ্গার
পড়ে রবে হেলায় সময়ের মলিন এক কোণে
অজস্র শব্দের আহত স্বর স্তব্ধতা ভেঙ্গেছে ঠিকই-
প্রাণে নয় অভিমানে, অনিয়ন্ত্রিত নীল যাতনায়।
শহরের তপ্ত হাওয়ায় স্বপ্ন নয়,
বিক্ষিপ্ত উড়ে বেড়ায় ভ্রান্তির কুহক ।
অবশিষ্ট কিছু নর্দমায় ডুবন্ত,
নয়ত শত শত পায়ের আঘাতে পিষ্ট
কোন আধপোড়া সিগারেট,
ভ্রান্তির আবেশে শব্দহীন নির্বাক।
পিশাচের আড়ম্বরে তাণ্ডব ধ্বংসের উত্তাল নৃত্য।
অগত্যা নিরুপায় পৃথিবী বয়ে বেড়ায় বিপন্ন সময়,
ভ্রমে আর ভ্রান্তিতে সংগ্রামের সমাধিতে কালের শ্যাওলা,
সান্ত্বনাই হয়তো আজ সহনের বিরল শক্তি।
হায় হেক্টর, হায় একিলিস।
দ্বন্দ্বে দ্বন্দ্বে বীরের হয় যবনিকা, নীরবে
সাক্ষ্য দিয়ে যায় অডিসি, আজ যার শেষটাও জয়ে নয়।
নিভৃত সত্ত্বায় সান্ত্বনা খোঁজে নিয়ত পরাজয়ের ।

প্রেমা


হে প্রেমী,
দেখেছ কি চেয়ে তব অন্তর্দৃষ্টে
ব্যথাতুর চিত্তের আস্টে পিস্টে
যাতনার ঘোরে আমি।

শোন হে প্রিয়া,
অবিনাশী যাতনায় পোড়ে হৃদ আজ 
তবু তোমা স্মরে যাই ভুলে সব লাজ
তুমি হে দুখ-জাগানিয়া!

ওহে তন্দ্রাহরনী
কতশত কবিতায় তুমি অদ্বিতীয়া
গীটারের সুরে সুরে অতুলনীয়া
তবু তব হেলা ভরা চাহনি!