Thursday, January 31, 2013

শিরোনামহীন অসমাপ্ততায়


কবির ভাবনায় আবার সংগ্রাম জেগে উঠবে
স্বাধিকারের মিছিলের তীব্র শ্লোগান
আবার সুর তুলবে বিপ্লবের
এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।

ভেবেছিলাম একটা মানচিত্র পেলেই মিলবে সব।
আর কোন হরিদাসির সিঁথির
সিঁদুর শুষে নেবেনা কোন হায়নার জিভ...
বিপ্লবের তাজা রক্তে চিকচিক করবে না আর
শহুরে ধুলোময় পিচগলা রাজপথ।

ভেবেছিলাম যদি একটি মানচিত্র মেলে,
তবে প্রিয়ার কণ্ঠে উল্লাসিত হবে প্রেমের
উদাত্ত আহ্বান। অথচ আজো প্রেমিককে
প্রতিনিয়ত শুনে যেতে হয় ধর্ষিতা দয়িতার
বিবস্ত্র দেহে অজস্র দংসনের আর্তচিৎকার।

কবির কলম স্বাধীনতায় নতুন শব্দ বুনবে,
প্রতিটি কবিতার অক্ষর হবে এক একটি স্বপ্ন-দুর্গ
কে জানতো! বৈষম্যময় সমাজের ক্রুদ্ধতায়
কবিতার ছন্দ অনাহারে মুখ থুবড়ে মুমূর্ষু
মূল্যবোধের মতো, স্বার্থের কলুষিত পদতলে।

শিরোনামহীন অসমাপ্ততায় স্থবিরতা জমা পরে
শিল্পের প্রতিটি অঙ্গনে। কালো টাকার মতো
জারজ স্বপ্নহীনতায় চির অধরাই থেকে যায় মুক্তি,
কাব্য থেমে যায় তাই শিরোনামহীন অসমাপ্ততায়।

সময় এখন বায়স্কোপের নয়, বিপ্লবের...

আর কোনো বীভৎস রক্ত চক্ষুর হিংস্র দাপটে
গা বাঁচানো ব্যাক্তিত্বে দৃষ্টি ভূমিতে লুটিয়ে দিয়ে
প্রকাশ করা নয়- আমরা শান্তিকামী।
নির্লজ্জ ভয়ে কুঁচকে যাওয়া প্রানের
সত্যের শক্তিতে জেগে ওঠার অভিপ্রায়ে
 দ্রোহী চেতা হওয়ার সময় এখনই।
আর কোনো বিবর্ণতার ছোবলে রঙিন স্বপ্নের
অবক্ষয় নয়, দূর পাহাড়ের সবুজ কায়ায়
গা মিশিয়ে তারুণ্যের সবুজে উদ্ভাসিত হওয়ার
কাঙ্ক্ষিত সময় কড়া নাড়ছে চিত্তের দ্বারে।

ঘুণে ধরা সমাজের বিপরীতে দাড়িয়ে
 মুক্তির সুর তোলার সময় এখনই।
সময় এখন জাগরণী গানের সুর তুলে
হারমনিকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পরা-
উল্লাস করা আনন্দের অনাবিলতায়।
কালো মেঘের ভয়াল গর্জনে ভীত নয়,
ঝড়কে সামলে নেয়ার আত্মপ্রত্যয়ে
দৃঢ়চেতা হওয়ার লগ্ন এখন।
সময় এখন বায়স্কোপের নয়, বিপ্লবের...

Thursday, January 17, 2013

তুমি আমি আর স্বার্থবাদি সময়

কথা ছিল যদি কখনো দুমড়ে যাই
তবে সেটা হবে স্বপ্নিল ভালোবাসার প্রভঞ্জনে।।
যদি হই নির্বাণ , তবে সে তোমার উষ্ণ চুমুর উত্তাপে

কথা ছিল- যদি লিখি গান
তবে তার সুর প্রান পাবে তোমার কণ্ঠ মায়ায়
যদি বিপ্লবের শ্লোগান ধরি সাম্যের উন্মাদনায়,
তবে তুমি হবে মিছিলের সহযাত্রী।
কখনো ভাবিনি আমরা সময়ের হিংস্রতায় বাধা পরবো 
লৌকিক সুখের মোহে।

স্বার্থের লোভাতুর আওভানে
আমরা সবাই আত্মকেন্দ্রিক নিমগ্নতায় নিথর
বিবেক লুণ্ঠিত হয় শোষকের কালো থলেতে।
হেসে যায় অন্ধকার।

প্রেম আর দ্রোহের কবিতাগুলো অবহেলার কুঁচকানো কাগজে
ঠাই পায় আবর্জনার ঝুড়িতে।
তুমি আমি আর স্বার্থবাদি সময়-
আপন খেয়ালে ধরা দেয় দাসত্বে।।


Saturday, January 5, 2013

সীমার ওপাশে

গাঢ় সিগারেটের ধোঁয়া
চারপাশ মৌনতা আর স্থবিরতায় ছয়লাব
প্রাণের উন্মাদনায় বিভোর স্বপ্নগুলো
নিষ্প্রাণের আলিঙ্গনে বাস্তব

স্থির সিলিং ফ্যানের গায়ে
জমে ওঠা ধুলো-
বুকশেলফের বুকে ক্রমশ বেড়ে ওঠা
মাকড়শার ঝুল
মেঝের উপর ছেঁড়া কাগজের স্তুপ
যেথায় সুপ্ত-
হাজার বর্ণের সমন্বয়ে জন্ম নেয়া
ভালোবাসার ছবি- কবিতাবলি।
ম্রিয়মাণ সব

ক্লেদাক্ত পাপস, ছাইয়ে ভরা অ্যাশট্রে
আর
পরাজয়ের বিদগ্ধ কিছু ক্ষতসমেত
একটি হৃদয়
একটি ভুবন।

Tuesday, December 4, 2012

স্বপ্নের বৈরিতা




রাত্রির সীমাহীন বিরুদ্ধতা
স্বপ্নভুক পিশাচের অবাধ চরাচর।
এখানে বাতাসে স্রমিকের মৃত শরীরের গন্ধ
এখানে ঈশ্বরের চোখে পরাজিতের গ্লানি,
মুক্তির প্রতীক্ষায় ধরা।

জেগে ওঠেনা আর বিপ্লবের ক্লান্ত কায়া
চোখ মেলে দেখি মুক্তির সমাধি
আবহে বাজে শোষিতের আর্তনাদ
রক্ত ঘামে উর্বর ওই পুঁজিবাদের পদতল।।

Thursday, November 29, 2012

ভালোবাসা মানে

ভালোবাসা মানে তোমাতে আমাতে আবেগের ঢেউ খেলা
তোমায় নিয়ে অকারণ শত কবিতা লিখে ফেলা।
ভালোবাসা মানে অযথাই শুধু তোমার ছবিটি আঁকা
কফির পেয়ালা ফুরিয়ে গেলেও মুখোমুখি বসে থাকা।

ভালোবাসা মানে মিছিলে মিছিলে দ্রোহের শব্দ বোনা
সাম্য স্বপ্নে বিভোর কবির উৎকণ্ঠিত যাতনা।
ভালোবাসা মানে তোমার ওষ্ঠে উষ্ণ চুমুর ছোঁয়া
ওড়না ঢাকা তোমার বুকে দৃষ্টি গ্রথিত হওয়া।

ভালোবাসা মানে গণসংগীতে জাগরনি সব গান
মাঝ রাত্রিতে মুঠোফোনে পাওয়া তোমার আওভান।
ভালোবাসা মানে অভিমান নিয়ে বুকে জমা করা নিকোটিন
বিপ্লবী বেশে দ্বিধাহীন বলা- ভালোবাসি তোমা সীমাহীন।।



Tuesday, November 20, 2012

রক্তাক্ত দ্রোহ

অঝরে ঝরে বিপ্লবীর বুকের তাজা রক্ত
শোষণের পিশাচ তখন উল্লাস করে
বিপ্লবীর কর্তিত করোটি ভরে করে
রক্ত সুধা পান।
ঘুম পাড়ানী গানের কপট মায়ায় নির্বিকার হয়
সমাজ- সভ্যতা আর বোধ।
আর্তের মতো গোঙ্গানি শুনি প্রেমের
এখানে প্রেমিকের চুম্বনের পর
সমাজ ওই ঠোঁটে ঢেলে দেয় অস্পৃশ্য পাপের হেমলক।
এখানে প্রেয়সীর উদোম দেহে ঢেউ তোলা স্তন স্পর্শের উন্মাদনা
অশুচি।। সমাজপতিদের জিভকাটা লজ্জা আর গ্লানিতে আড়ষ্ট।

আর বিকট রাত্রির গুমোটে  ওরাই আবার
ভাজ্ঞাহত দেহস্রমিকের মাংসল নিতম্বের দোলায়
সমাজের বুকে গেঁথে দেয় অসহায় আর বঞ্চিত ভ্রূণ,
সূর্যদেবের জাগরণে যার নাম জারজ পাপ

সাম্যের স্বপ্নে অধির পথিকের পায়ে
ওরা বেঁধে দেয় স্থবিরতার শৃঙ্খল,
কবিতার গায়ে অশ্লীলতার দায় চেপে
কবিকে করে অচ্ছুত, দ্রোহ আর প্রেম এখানে নিষিদ্ধ।

দ্রোহের বিপরীতে বুলেট আর প্রেমের বিপরীতে
সাম্প্রদায়িক ক্রুদ্ধ চোখ।
পত্রিকার বুকে ক্রমেই জমে ওঠা বঞ্চনা
ওদের চখে বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
শোষিতের রক্ত চুষে ফুলে ওঠা শোষক এখানে সমাজপতি।