Sunday, December 21, 2014

প্রস্থান



জানি হয়তো শেষ হবে এ পথচলা
থাকবে না পড়ে  মনের কোন এক কোণে
অস্ফুট কোনো জিজ্ঞাসা, গাঢ় কোনো অভিমান।
জানি হয়তো কবিতার চপল ছন্দে আর দুর্বার শব্দে
জেগে উঠবো না আর তোমার অষ্টাদশী বুকের স্পন্দন হয়ে।
থেমে যাবে সব, জানি স্মৃতির রোদেলা প্রান্তে জমবে
মেঘের বিস্মৃত ছায়া। হয়তো সময়ের আবরণে ঠাই মিলবে
নিছক উযাপনের নিয়ম মাপা দিনে, ক্ষুদ্র কোন আড্ডায়,
চায়ের পেয়ালায় অথবা সিগারেটের উদাসী ধোঁয়ায়।

কতনা অভিমানে ঘেরা হাজারো প্রশ্ন থমকে যাবে সব
গোধূলিতে মোহনীয়  মায়া নয়, খুঁজে যাই আঁধারের আহ্বান
এসেছিল যে স্নিগ্ধ ছোঁয়া মেখে, কল্পলোকের রঙিন আঙ্গিনায়
ভুলে ভরা কবিতার ছন্দে আর ভ্রান্তি জড়ানো গল্পের কুহকে
বিষাদের কালো রঙে ছাপিয়ে দিয়ে গেলো চিত্তকাননের সবুজ।
আবেগের উষ্ণতায় নয়, মোহাবিষ্ট আরক্তিতে নয়, আবেগঘন
প্রশ্বাসেও নয়, ভাবনায় তাই সাথী হলাম দীর্ঘশ্বাস হয়ে,
বিচ্ছেদের করুণ সুর যেন বিধৃত হল ভুবনময়।
প্রাণোচ্ছাসে নয়, বয়ে চলা নিরবধি নৈশব্দের থমথমে
নীলিমায়, প্রস্থানের শ্লেষ মাখা ডাকে।


Monday, December 8, 2014

স্বপ্ন সমাধি



আমরা স্বপ্ন দেখে ক্লান্ত হইনা
হই বিভ্রান্ত, প্রতিনিয়ত দণ্ডিত হই।
আমাদের স্বপ্ন চারন ভূমিতে সবুজ ঘাসের নয়,
পোড়া বারুদের বিকট গন্ধ, কল্পলোকের খেয়ায়
আজ দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা নয়,
আঘাত হানে নিবীর্যের লজ্জা।

আমাদের দ্রোহ তাই রক্তিম নয়, রক্তাক্ত
আমাদের বিজয়ের উল্লাস তাই ভ্রান্তির কুহকে
প্রতিধ্বনিত। বৈষম্য আমাদের অদৃষ্টের অলঙ্কার।
সহসা প্রতিবাদী গান, মুক্তির শ্লোগান
ইতিহাসের ঘূর্ণিপাকে জীবন্ত হয় বারবার।
মুক্তি মেলে না, স্রেফ শোষকের হাতবদল।

এই মাটি আমাদেরই রক্ত ঘামে উর্বর,
এই সমাজ আমাদেরই সম্ভ্রম বিসর্জনে বলীয়ান।
এ শহরের রাজপথের প্রতিটি আঙিনা
আমাদেরই দৃপ্ত মিছিলের দম্ভে সরগরম।
এই দেশের কৃষ্ণচুড়া আমাদেরই বুকের তাজা
খুন মেখে রক্তিম লাল; এখানে ভোরের সূর্য
আমাদের রক্ত মাখা চেতনা।


বিজয় আমাদের কাছে আজ ক্যালেন্ডারে মাপা
২৪ ঘণ্টার উসব আয়োজন বিশেষ।
জাতীয় পতাকার লাল সবুজ আজ চেতনায় নয়,
পত পত উড়ছে দামী গাড়ির সম্মুখে স্রেফ।
স্বপ্নের রঙ সবুজ হলেই ইতিহাসের কালো মেঘের মতো
লাঠিচার্জ আর কাঁদুনে গ্যাস তা ধূসর করে দেয়।
সংগ্রামের পথ ধরে আবার স্বপ্ন দেখি আমরা,
ক্লান্ত হইনা। বিভ্রান্ত হই, দণ্ডিত হই বারংবার।


Sunday, December 7, 2014

আবার কখনো যদি

আবার কখনো যদি
সেই চৌরঙ্গীতে
একগুচ্ছ জীবনানন্দ,
কয়েকটি সিগারেট,
একটি দেয়াসলাই ,
স্বপ্নালু তুমি ,
এক ঠোঙ্গা ঝালমুড়ি,
মৌনতাময় স্নিগ্ধ বিকেল
আর
এক পশলা বৃষ্টি...
তুমি আমি আর একমুঠো গোধূলি।

Monday, December 1, 2014

স্বাধীনতার আগমন



কতটা সংগ্রামের পরে, কতটা রক্তের দামে
কতটা তাজা প্রাণের বলিদানে কতটা বিসর্জনের
অন্তিমে তোমায় পাওয়া হে স্বাধীনতা।
তোমাকে আনার জন্য শিল্পীর তুলি রঙ ছড়াল রক্তের।
রহস্যমহী মোনালিসা নিমেষেই রূপ নিল
ভাজ্ঞাহত হরিদাসির মলিন বদন হয়ে।  
বিক্ষিপ্ত লাল সিদুর কপাল থেকে মুছে
ছড়িয়ে পড়লো দ্রোহের ক্যানভাসের প্রতিটি আঙ্গিনায়।
তোমাকে ছোঁয়ার জন্য ছন্দ বদলে গেলো কবিতার।
কবির কলমে চেতন হল বিজয়ের অবাধ্য হুংকার,
মুক্তির দুন্দুভি সুর তুলল প্রতিটি শব্দের অন্দরে।
তোমার উদার দর্শন পেতে কৃষকের হাত
লাঙ্গল ছেড়ে তুলে নিল বন্দুক, মুক্ত বাংলার আকাশে
লাল সবুজের তৃষ্ণায়, ছাত্র শিক্ষকের কোরাস কণ্ঠ
মুহূর্তেই রূপ নিল অধিকারের দৃপ্ত শ্লোগানে,
জল্পাই রঙ্গা ট্যাঙ্কের বুলেটি হুংকারে নেই ভ্রূক্ষেপ কারো।
হাসতে হাসতে বুকে বেয়োনেট নিল শত শত তাজা একুশ ।