Tuesday, August 20, 2019

তৃপ্তি

মায়াবী রজতসুধায় অক্লান্ত আরক্তি আর তীব্র মোহনসুখ
অবিশ্রান্ত উপস্থিতি তোমার, অনিমেষ জেগে উঠি প্রাণোচ্ছ্বল।  
সবকটি অক্ষর ব্রতী হয় কোমল ওই স্নিগ্ধতার পরশসুখে
দহন জ্বালা মুহূর্তেই হয় পীযুষ তৃপ্তি  যদি তুমি হাসো!
মেনিমুখো গদগদে প্রেমালাপ ভাবছো? তুমি বিশেষনের ঈর্ষা
ভীষণ এক ছন্দাবৃত সুন্দরের অপরূপ স্বচ্ছ প্রকাশ তুমি,
নিস্তরঙ্গ মরা নদীর ভরা যৌবনসুখে উত্তাল স্রোত ওই স্পর্শে
আমি জানি, আমি জানি, আমি জানি, এ যাতনা মোহ নয়  
কিছু উপস্থিতির প্রতিস্থাপন নেই, অবিচল অনিবার্যতায় স্থির
নয়ত কবিতারা থেমে যাবে, অবিনশ্বর সুন্দরে বেঁচে থাকবে
যাতনার উষ্ণ হেমে, স্নিগ্ধ পবিত্রতায়, সুন্দরের সবকটি বোধে।

Sunday, August 18, 2019

ঘ্রাণ


কখনো নিরুত্তাপ নীরবতার ক্লিষ্ট বোধে তরঙ্গহীন নিয়মত্রন্ত্র,
মহাকালের বক্ষ ফুঁড়ে প্রসবকৃত তুমিময় সময়গুলো তবু
নিয়তির কাঙ্ক্ষিত বাস্তবতায় তৃপ্তির দুরন্ত বুননে আবিষ্ট।
মধ্যরাতে শরীরী ঘ্রাণে অচেনা উন্মাদনা!অনুরোধের স্রোতে
বদলানো বসন ছাপিয়ে দেয় চেনা ঘ্রাণের আঁধারী উৎকণ্ঠা,
এরপর ভোর হলে অকারণ নিয়মতন্ত্র আবছা ক্লিষ্টতা গড়ে।
দর্পন অভিমুখে খুঁজেছ স্বীয় সত্ত্বা, অসহায় লাগে জানি
ভেজা দেয়ালের গায়ে ছোপ ছোপ জলের মত দুঃখ জমে মনে
গাঢ় অসহায়ত্বে চেনা আস্থায় খোঁজো  অনাগত গন্তব্যের পথ
দূর থেকে অপার বিমোহনে, স্নিগ্ধ মায়ায় কাব্য জন্মায় আজো
আমার শব্দগুলোও ভালোবাসা খোঁজে তোমারই সেই চেনা ঘ্রাণে, 
তৃপ্ত মনে ডানা মেলে শব্দের শঙ্খচিল, ছন্দের বিস্তৃত আকাশে।

প্রিয়তা

বাহারি কল্পে বিশদ স্বপ্ন প্রায়সই রঙ্গীন হয়
সঙ্গীন সাজায় নিত্য দিনের সাত স্বরলিপি 
শেষ বিকেলে সহসাই ছুটবে আপন নীড়ে 
সাঙ্গ হবে  আলোর শতদল, তিমির রাত্তিরে।
যেন অজস্র অভিমান কোরাস গাইবে আজ
বদলানো পটভুমি সাক্ষ্য দেয় অসার ভ্রান্তির,
সেই যে সমাজ তুলেছিলো ভৎসনার আঙুল 
জানি সে দায় আমারই, ভয় মেলে প্রশাখা
রাগতঃ মুখের গভীরে এক অসমাপ্ত জিজ্ঞাসা
সময়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পদ্মফুল হাতে
কেউ এক প্রতীক্ষিত রবে প্রিয়তাকে চেয়ে।
অজস্র ভ্রান্তির পর ক্লান্তিহীন আবেশে অজড়
তাহারেই ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।

Tuesday, August 6, 2019

তুই


ভীষণ রকম এক অদ্বিতীয় সত্ত্বার মূর্ছনা তুই, অনির্বান প্রাপ্তি
যৌবনের মধ্যগগণে অসমাপিকা বহু বোধের অভিষিক্ত সমাহার।
জানি জীবন তার আপন কক্ষপথে সরল করে নিতে চায় সব  
প্রাপ্তির বর্তমানকে চড়ামূল্যে হলেও ধরে রাখতে সে বদ্ধপরিকর
জানিস তবু? কিছু প্রাপ্তির হিন্দোল কিংবদন্তী আর কালোত্তীর্ণ,
বিগত কিংবা অনাগত সময়ের শেকলে তার সরলীকরণ হয় না।
লঘু সমীকরণে খুঁজে নেয়া লক্ষ্যে-পথের কাঙ্ক্ষিত উত্তর তুই ।  
সবকিছুর প্রতিস্থাপন হয়না। কিছু সত্ত্বা দুর্লভ হয়, প্রতিক্ষিত হয়,
নয়ত অভিধানে অভূতপূর্ব, অদৃষ্টপূর্ব শব্দগুলো কত্থেকে আসত বল?

Sunday, August 4, 2019

অবিসংবাদিত


অবিসংবাদিত তুমি, তাই আচমকা অনির্বান বোধনে অর্বাচীন ভাবনায় তুমি-
সংবাদহীন আত্মগোপনে থাকা বোধকেও নাড়া দাও বৃষ্টির ধারালো ঝাপটার মত
এরপর সংবেদনশীল অন্ধকার নামে। বিগলিত তাড়নায় ভর করে অনাহুত যাতনা।
সেই কবেই দাড়িয়েছি সাধারনে-সমান্তরালে, সন্ধি অভিসন্ধির মারমুখো তাড়নায়
জানি প্রত্যাশিত সহজলভ্যতায় শব্দরা খাবি খাবে হাই তোলা অনুমেয় ঔদাস্যে।  
তবু অর্বাচীন বোধনেই জন্ম নেবে কবিতা, অসমান্তরালে, যাতনার অসমাপ্ততায়।