Wednesday, May 14, 2014

তৃপ্ত অনুরাগে


বৈশাখী দাবদাহে ক্রুদ্ধ সূর্যতেজ, পিপাসা কাতর ব্যকুলতা,
উত্তপ্ততায় পীচগলা রাস্তা, 
হঠাৎ মৃদু তৃপ্তির আবেশ- 
তোমার ওড়নার হালকা ছুঁয়ে যাওয়ায়।
মুহূর্তে চৌরঙ্গী থেকে প্রান্তিক অথবা মুক্তমঞ্চ
হারিয়ে ফেললো খরতাপে ঝলসানো তেজের প্রদাহমান চরিত্র,
তোমার আমার ভালবাসায় রচিত হলো শীতল সবুজ।
ছন্দহীন অভিমান হয়ে গেলো 
ছন্দময় ভালবাসার তৃপ্ত অনুরাগ।

Sunday, May 4, 2014

স্বার্থের দাসত্ব



প্রতিনিয়ত আমরা লখিন্দর হয়ে দংশিত হই দাসত্বের শাপে।
আমাদের চেতনার প্রচ্ছদ জুড়ে গ্লানি আর জড়তার অদৃশ্য অবগুণ্ঠন।
আমাদের স্বপ্ন প্রতারিত হয় মহাকালের চর্চিত ছলে,
নিরবধি বয়ে যায় বর্তমান, দাসত্বকে কাধে নিয়ে অনিশ্চিত আগামিতে। 

ক্ষুধার্তের নিত্য হাহাকারে এখানে জমে ওঠে শ্যাম্পেন উৎসব ,
আর্তের বক্ষফাটা ক্রন্দনে এখানে শোষকের উদ্যম নৃত্য।
বঞ্চিতের শতসহস্র হাত বৃথা আস্ফালন করে সাময়িক মুক্তির উচ্চাভিলাষে-
নিমেষেই মুক্তির অপমৃত্যু, শোষকের পদাঘাতে দলিত কৃষ্ণচূড়ার মতো।

আজ শিল্পের  বিকাশ থমকে যায় সমাজ সৃষ্ট পাপের দায়ভারে,
এখানে কবিতা মানে উম্মাদের প্রলাপ, নাস্তিকের কল্পকথন।
এখানে সঙ্গীত মানে অধর্মের অভিশপ্ত আওভান,
স্বপ্নহীন ঘরকুনো দাসত্বের নিবীর্যতাই এখানে চিরায়ত পরিনাম।

আমাদের স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষা গুলো লুণ্ঠিত হয় স্বার্থের  ছকে বাঁধা দাসত্বে।
আর স্বপ্নের পরিধি অগত্যা লীন হয় দুঃস্বপ্নের আগ্রাসী অন্ধকারে,
জাগরণী শত কবিতা জমা পড়ে ধুলোমাখা শেল্ফের মলিন এক কোণে,
অন্ধকারের রাশউৎসবে আকার পায় বিকার গ্রস্থ অপসংস্কৃতি, ছেয়ে যায় তারুন্যে।





Tuesday, April 22, 2014

আমার বন্ধু শ্রাবণ


আমার কাছে শ্রাবণ যতটা না রাবিন্দ্রিক কাব্যের উদ্ভাসিত বর্ষার প্রহর
তার চেয়ে ঢের বেশী একটি নাম, বিস্তর  স্মৃতিময় অনুভূতি।
আমার কাছে শ্রাবণ এক শীর্ণকায় শ্যাম বরণ উনিশ,চঞ্চল একুশ-
ক্যাম্পাসের রুদ্র চেতনার অবিচল সতীর্থ।
মিছিলে, শ্লোগানে, গানের আড্ডায় , কখনোবা অভিমানে,
বিষণ্ণ বিকেলে গাঢ় সিগারেটের ধোঁয়ায়, খুনসুটি আর বিরক্তিতে
একটা গোটা জীবনের মুখ্য অধ্যায়ের প্রচ্ছদে
চেতনার এক বর্ণময় চরিত্র- শ্রাবণ।

বন্ধুত্বের বিরামহীন যাত্রার অক্লান্ত সঙ্গী শ্রাবণ।
শেকল ভাঙ্গার দিনগুলোতে , বখাটে  একুশে জেগে ওঠা প্রেমে-
স্কন্ধে সেই বন্ধুত্বের হাত, আজ স্মৃতিময় যাতনায় আবদ্ধ।
এখন হয়তো সপ্তাহের ব্যস্ততার পড়ে মুঠো ফোনে দুমিনিট স্রেফ।
সেই রাত্রিজাগা দিন গুলোতে দিন বদলের সহযোদ্ধা,
কখনোবা ঈষৎ ঈর্ষা, কখনো নিছক বিরক্তি-
ছয় বছর একই রুমে অনুরাগে- বিরাগে, স্ফূর্তিতে বা জাতনায়। 

আজ হয়তো হঠাৎ দেখায় মৃদু হেসে করমর্দন
 তারপর নিজ নিজ কক্ষপথে ফেরা বতমানের আবর্তে,
স্বার্থপর সময়ের রুক্ষ উদাসী বিরুদ্ধতায়।
তবু সেই বন্ধুত্বের চেতনা, সেই উম্মাতাল একুশের সীমাহীন ছুটে চলা
স্মৃতিতে ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকবে তারুণ্যের সাক্ষী হয়ে-
চিরদিন। এখনো কর্পোরেট বস্ততার অবসরে হৃদয়ে উঁকি দেয়-
সেই প্রিয় মুখ- আমার বন্ধু শ্রাবণ।