Saturday, April 5, 2014

আড়ষ্ট বর্তমান


ইচ্ছের নুয়ে পরা স্বপ্নহীন আচ্ছাদনে আড়ষ্ট দিনাতিপাত
কখনো চৈতালি হাওয়ায় উড়ে আসা স্মৃতিদের নিত্য প্রভঞ্জন,
আহত কামনায় হাত বাড়াই, নিয়ত প্রতারিত হই মোহের ছলনায়।
ভালোবাসা কিংবা দ্রোহ আজ সময়ের অতীত।
আবদ্ধ আঙ্গিনার পরাধীনতায় আজ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বস্তিই সান্তনা।
ডায়েরি নয়, কলম নয়, তাই কবিও নই আজ।
কীবোর্ড আর মনিটর সামনে রেখে স্রেফ যন্ত্রমানব।
নীলাভ বিকেলে মৃদু হাওয়ায় হেঁটে যাওয়া সেই চৌরঙ্গীর মোহনা,
উস্রিংখল বাতাসে সরে যাওয়া ওড়নায় তোমার অপ্রস্তুত সলজ্জ চাহনি
আজ কেবল সময়ের তোরণে ভিড়  জমানো স্মৃতির বিলাপ। 
এক চুমুক তুমি আর এক ঢোঁক অতীত,
ভালোবাসা আর অপরাধবোধে মিলে মিশে একাকার
আড়ষ্ট বর্তমান আজ কেবলি উত্তর খুঁজে ফেরে-
হারিয়ে যাওয়া তোমাকে , সময়ের ব্যবধানে।

Thursday, March 13, 2014

দুঃস্বপ্নের পোস্টমর্টেম


নৈমিত্তিক কুণ্ঠায় বিপন্ন বোধ,
এখানে স্বপ্নের আকাশে আহত বাস্তবের থমথমে কালো মেঘ
নৈশব্দ আর্তনাদে অভিশপ্ত যযাতি।
আমার কাছে জ্যোস্নার ঢল এখন আর উদার স্বপ্নের
মোহময় যাতনা নয়, নিয়ম মেনে রাত্রির বক্ষে
চুরি করা খানিকটা আলো বিলিয়ে  দেয়ার সান্তনা।

Sunday, February 16, 2014

অনুভূতির বিবর্ণতা

ক্লান্ত কবির অনুভূতির বিবর্ণতা-
তবুও হায়, শব্দ বুনে যায়,
আবেগের খেয়ায়, স্বপ্নহীন বিবর্ণতায়...

ভালোবাসা সেথায় নৈশব্দের শব্দহীন ডানায়
নৈরাশ্যের বুকে উড্ডীয়মান ,
কবিতার অক্ষর জুড়ে ছন্দহীনতার ম্রিয়মাণ যাতনা।

ফেলে আসা গোধূলি ,
কালের ধুলোয় মুছে যাওয়া কিছু হাসি-
পাছে পড়ে থাকা নিকষ অভিমান। 

মিছিল কিংবা দ্রোহ,
সবই সময়ের খেয়ালী অভিলাষ-
বর্তমানে যার অস্তিত্ব- উপহাসমাখা প্রতারিত অতীতের ফ্রেমে।

Wednesday, January 1, 2014

নতুন দিনের প্রেরণা...



নতুন বছর মানেই আজি নতুন স্বপ্ন আঁকা
নতুন প্রানের উচ্ছ্বাসে আজ সুখটি ছড়িয়ে থাকা,
ফেলে আসা যত বেদনার গ্লানি, রুক্ষ হাহাকার-
নব প্রভাতের শুভ্র আলোয় লীন হয়ে ছারখার।
ফুলের সব সৌরভে আর সৃজনের গানে গানে,
নতুন বছর ডানা মেলে দাকে নতুনের আহ্বানে।

শত বঞ্চিত আহত চিত্তে পরিবর্তনী সুর,
নিদারুণ যত কষাঘাতে আর নাহি হব ভঙ্গুর-
নতুন দিনের নতুন ডাকে দূর করে সব জরা
সাম্যের সুখে হাসবে আজিকে তৃপ্ত বসুন্ধরা।
নতুন আলোর রঙিন দীপ্তি তুচ্ছ করে ভয়,
আঁকবে যে পথ আধারের বুকে, তুলবে সৃজনী প্রলয়।

নতুন বছর- প্রেয়সীর ঠোঁটে উষ্ণ চুমুর স্পর্শ
রক্তগোলাপ হাতে নিয়ে বলা-“ শুভ হোক নববর্ষ”
পুড়নো ডাইরির কবিতা পড়ে ম্লান হাসা এক হাসি,
লাজুক কণ্ঠে আজো বলে ওঠা- “তোমাকেই ভালোবাসি”
পড়ে থাকে শুধু নিভৃতে কিছু বিসর্জনের ব্যাথা;
নতুন বছর নব জীবনের স্পৃহার স্বপ্ন গাঁথা।

Saturday, November 30, 2013

গোধূলির অন্তিমে

মহাকালের অনন্ত গ্রন্থি হতে ধেয়ে আসা অতীত যখন
সাক্ষ্য দেয় বিপ্লব, প্রেম, আড্ডা কিংবা
 রংচটা সেই গীটারের সুর ঝংকার,
এক অস্ফুট ক্ষীণ বিষাদের ছায়া ঢেকে দেয়-
রৌদ্রকরোজ্বল সজীব বোধন।

নীল বিষের জলাঙ্গি হয়ে প্রতিটি মুহূর্ত তার
স্বার্থপর থাবায় আহত করছে হৃদয়,
পুরাতন অতিথির মতো দুঃখ এসে করা নারে জীবনের দারে-
ফুলেল সৌরভ ভরা সেই রডডেন্ড্রনগুচ্ছ কেবল
শুঁকনো হাহাকারের ঝাঁঝালো রূপ আজ।

যখন চৈতালি বিকেলের অন্তিমে অস্তগামী সূর্য
গোধূলিকে জাগিয়ে তুলত এক অপরূপ মোহময় আবেশে,
দিবসের শত ক্লান্তি যখন ওই ভ্রমরকৃষ্ণ কেশের ছোঁয়ায়
কর্পূরের মতো উড়ে গিয়ে উষ্ণ ভবিষ্যতের রূপোলী আভায়
স্বপ্নে স্পশিত হতো দুটি হাত, অমোঘ রাত্রি তখন
কল্পনারও অতীত- ছিল সুখের আচ্ছাদন।

আজ এই সুরে রুদ্ধতার শৃঙ্খল,
আজ এই বক্ষে যন্ত্রণার কালো ক্ষত-
আজ সেই গোধূলি বেলা ফেলে আসা নিথর অতীত।
সত্ত্বা জুড়ে যার বিচরণ, যার বুকে ছিল বসুধার আশ্রয়-
যার অশ্রুতে এই হৃদয়ে বেদনার ঊর্মিলহর-
আজ কেবল সে বর্ণহীন স্মৃতির ধুম্রজালে
মলিন গল্পকন্যা।

সপ্তবর্ণে যদি কখনো এসে ছুঁয়ে দেখো এই রিক্ত বক্ষতল,
অনুভব করবে মধ্যানহের কালতুল্য সূর্যের উত্তাপজ্বালা,
জানি, হয়তো মনে হবে - এ কোনো সস্তা প্রেমের উশৃঙ্খল বিলাপ
কিংবা উম্মাদ বসন্তে স্বপ্ন ভঙ্গের ঈর্ষা।

তবু বলছি শোনো-
যখন কণ্ঠে ছিল সাম্যের উত্তাল সুর,
যখন হস্ত মুস্থি ঊর্ধ্বমুখী আওভানে অধিকারের শ্লোগানে মুখর
যখন সময়ের অলংকার ছিল মিছিল, প্ল্যাকার্ড আর গণসংগীতের
উত্তাল মূর্ছনা। তোমায় উপমা করে হাজারো কবিতা
তখনো জমে ছিল ডায়রির পাতায়,
ভালোবাসা তখনো সুর তুলত সেই রংচটা গীটারে
ক্ষীণ ডাকতো- গোধূলি...