Sunday, July 16, 2017

কৃষ্ণপক্ষ



অসহিষ্ণু সময় আঁকড়ে ধরে নিভৃতে।
মনের খোলা বাতায়নে অনাহূত জমা হয়
বিষাক্ত বিষাদ। দহনজ্বালায় পুড়ে অঙ্গার
সবুজ ভালবাসা সব, স্বপ্নের মৃত্যু মিছিল।  
তবু প্রেম ছুটে চলে আস্থার বিনির্মাণে
দ্বন্দ্বে দ্বন্দ্বে ক্লান্ত দ্বৈরথাক্রান্ত কায়া মন!  
শেষ বিকেলের আলোয় কালো শাড়ীর মতো
সময়ের অঙ্গ বিছিয়ে ছড়িয়ে পরে অন্ধকার।
পৃথিবী তখন স্বপ্নের শবালয়ে প্রেতায়িত।
ধ্বংসের প্রতীক্ষায় রয় ভালবাসার ইমারত,
যে স্পর্শে সচকিত জেগে উঠেছিলো ভ্রান্ত দুপুর
নির্ভরতার ব্রততী মুছে গেছে অন্ধকারে আজ।
চন্দ্রমল্লিকার তিথি সব আকাশে ধরা দেয় না
কৃষ্ণপক্ষে দেখবে বিজয়ের বৈজয়ন্তী!
মনের জমি দখল হয়েছে আজ, বিষাদে ।

Monday, July 10, 2017

অন্তর্ধান



শুনেছ, ও বেলায় বসন্ত ফুরিয়ে গেছে,
খসখসে যে শব্দ তোমার শ্রবণে নাড়া দিচ্ছে
সে আজ ঝড়াপাতার আর্তনাদ।
পাল ছিড়ে দিকহারা জাহাজি ছোটে পাড়ের অন্বেষনে
শ্বেত পায়রার বুকে রক্ত,
সঙিনের লাল আঘাতে জানায় অন্তর্ধান।
স্বপ্ন দাহে গড়েছে যে শবালয় তারই অশরীরী প্রেত
বিকট হাতছানি দেয় রক্ত চোখে।
আমায় নিয়ত তাড়া করে সেই মৃত্যুহীন যাতনার ঘোর।
ভাতঘুম দুপুরে ক্লান্তির শ্লেষে শেষ ঘুম তবে!
পান্ডুলিপির মলিন কোনে জমা অভিমানে জমা কোনো শেষ পংক্তি!
বরষার বিম্বিত ফোটা এখানে অশ্রুরই রুপান্তর।
দেখেছ কি সেই অনন্ত অশ্রুর নির্ঝরী মাতম।
যদি মধ্য রাতের সিগারেট শেষবার মাতে অগ্নি আলিঙ্গনে
নির্বাণ সুখে অনন্ত বিলীনতার প্রতীক্ষায়।

Sunday, July 9, 2017

চন্দ্রস্নান



শব্দহীন জ্যোৎস্না কাল সুর তুলেছিল নির্জনরাত্রির স্পন্দিত কায়ায়
অনিমেষ এক আলোর ঝাপটায় তুমি হয়ে উঠেছিলো চন্দ্রস্নাত
বিজন রাত্রির বুকে কান পেতে শুনেছি তোমার কোমল সুরতান,
হিম বিছানায় উপচে পড়া জ্যোৎস্নার ঢলে তুমিও ছিলে চপল
প্রবাহিত নদীর মত উচ্ছ্বাসের অববাহিকায় তোমার চলন্তিকা।
ঘুমের আস্বাদে লালিত এই পৃথিবী তখন ঘুমহীন, ক্লান্তিহীন
অজড় হয়ে উঠে আসে তোমারই মত, প্রেমের প্রতীতিতে ।
রাত্রি বাড়ে, অন্ধকার নয়। জ্যোৎস্নায় তুমিও আলো হও নিয়ত ।
মুছে দাও অনন্ত প্রাণে অনাহুত অন্ধকার সব স্পর্শিত তানে,
আলোকনন্দায় ভেসে বেড়াও বিজড়িত সুখে, প্রাণোচ্ছাসে।
তোমার ভেতর মিশে যাবো আমিও, গানের মাঝে সুরের মত,
কবিতার মাঝে ছন্দের মত,প্রেমের মাঝে অনুরাগের মত।
প্রগাঢ় সত্যি হয়ে বিভাময় করো নিত্যকার পৃথিবীর অন্ধকার।
বোধহীন আচ্ছন্ন পৃথিবীতে তুমি কদমকেতকির সুঘ্রাণ,
নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে তুমি অফুরন্ত অহমদীপ্তি- দীপান্বিতা।
মাঝরাতে সর্পিল বিষাদের অবসানে, বিষণ্ণ ক্লান্তির মহাযাত্রায়
তুমিই অনন্ত সুখ, প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি ভোরের স্বপ্ন ।

Wednesday, June 21, 2017

দেবী ২



তুমিও দেবে সান্ত্বনা আরও একটি ঝড়ের পড়ে
মাথা তুলে দাঁড়াবার প্রত্যয়ে। হাত তুলে আহ্বান করবে
একটু একটু আমি উঠে দাঁড়াবো তোমার সাড়ায়।
এরপর ঝড় থেমে গেলে তুমি নেই।
আমিও দাড়িয়ে তোমার স্পর্শ নিয়ে।
কে তুমি হে মোহিনী কভু শরীরী, কভু অশরীরী
অনেক অনেক রাত্রির পরে, ঝড়ের পরে তোমার কোমল মুখ
সে কেবল প্রেম নয়, বেঁচে থাকার প্রত্যয়।
অথচ নিক্বণে তোমার সুর দূরে দূরে সড়ে,
মন্দাক্রান্ত প্রেমেও আমার স্বচ্ছ চোখ তোমায় ছবি আঁকে।
তুমি নেই? আবার যে ঝড় আসবে?
তখন আসবে আবার? তুমিই প্রভঞ্জন।

Tuesday, June 20, 2017

দেবী



এরপর স্বপ্নহীন রাত্রি গুলো প্রেমহীন কামের মতই নিথর-
শরীরী সমর্পনে নিয়মের সংহার।
প্রেম বড় দুর্লভ এই মুখোশের প্রেক্ষাগৃহে।
তুমি অবিনাশী, প্রেমের মতই।
রাত্রির কামিত আহবানে পোশাকি সংগম নও।
সহস্র মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ঘটে প্রেমিকের
তুমি আছ বলে কিছু রাত্রি এখনো স্বপ্নময়।
কামপীড়িত ক্ষুধার্ত যোনীর আকুতিতে প্রেম আবদ্ধ নয়।
তোমার প্রসারিত বাহু আজো এই বর্তুল বসুধায়
প্রেম নিয়ে আসে রাত্রিতে।
অত:পর রাত্রি হোক স্বপ্নময়, অবারিত প্রেমে।

Tuesday, June 6, 2017

অবসাদে দীপান্বিতা



রোদ গুলো লুটোপুটি ঘায় জানালার পাশ ঘেঁষা
ইজি চেয়ারের দীর্ঘ আলস্যে। শব্দের টানাপড়েনে কবিতা,
তবু রোদ এসে জাগায় তোমায়, ঘুম কোলে শুয়েছিলে বুঝি
শত রাত্রির গহীন মেদুরতায়, সুরের উচ্ছ্বাসে।
ভিড় করেছিল বিকেলের নির্জন সুখ, কফির কাপে
মুঠোফোনে প্রতীক্ষিত কোনো স্বরের ব্যকুল কণ্ঠের উ
কণ্ঠা।
চেনা শরীরের ভাঁজে ভাঁজে অচেনা স্পর্শের দহন
উষ্ণ নয়, দগ্ধ করে জানি। জানালার ফাঁকে আলো গড়িয়ে
উড়ে এলো রোদ, গতরাত্রে বিস্মিত ঘুম,
অগোছালো কবিতার শব্দহীন দ্যোতনা, শ্লেষহীন প্রত্যয়ে আবার।
কান পেতে ছিলে তুমি? শুনেছিলে সময়গ্রন্থির ব্যগ্র আহ্বান?
নিয়মের খোলসে সুখের কিছু সীমা আছে, ইজি চেয়ারে
নয়ত মধ্য রাত্রে একাকী জীবনানন্দে। আমিও ঝপ করে
আচমকা বৃষ্টি হয়ে ধুয়ে দিতাম শ্লেষ, বোধের বিপন্ন বিস্ময়ে।
তুমি জেগেছিলে, মৃদু হাসলে। এরপর বললে- থাক।